সোহেল ফরাজী , আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের কালীপুরা গ্রামে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে খালের পলি অপসারণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকায় চলমান এ কাজের কারণে খালের দুই পাড়ের বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, জমি ও ব্যক্তিগত সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সোমবার সরেজমিনে গিয়ে এবং স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খননকাজে নিয়মনীতি অনুসরণ না করে ভেকু (খননযন্ত্র) ব্যবহার করায় খালের দুই পাশের জমি ধসে পড়ছে। এতে কয়েক লাখ টাকার গাছগাছালি, পানের বরজসহ বিভিন্ন সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। অনেকের বসতবাড়ির পাশের মাটি কেটে নেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খননকাজে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার কায়সুর রহমান ফকু তার ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির জমি ও গাছপালা রক্ষা করলেও সাধারণ মানুষের জায়গায় নির্বিচারে খনন কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত মো. ফারুক মীর বলেন, “খাল সেচ না দিয়েই নামমাত্র খাল কাটা হচ্ছে। এতে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নীতিমালা তোয়াক্কা না করেই কাজ চলছে বলে আমার বিশ্বাস।”
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত মো. ইছাহাক মীর বলেন, “খাল কাটাকে কেন্দ্র করে ভেকু দিয়ে আমার পানের বরজের ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে।”
স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য তাছলিমা বেগম বলেন, “রাতের অন্ধকারে খাল কাটা হয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, এভাবেই কাজ হবে।”

ইউপি সদস্য আ. আউয়াল বলেন, “রাস্তার দুই পাশে গরিব অসহায় মানুষের গাছগাছালি ছিল। খননকাজে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি খননকাজে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার ও সাবেক চেয়ারম্যান কায়সুর রহমান ফকু বলেন, “আমি উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। যার যার গাছ তারা স্বেচ্ছায় কেটে নিয়ে যাচ্ছে। নিয়মের বাইরে কোনো কাজ করা হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “কাজ করতে গেলে কিছু সমস্যা হয়। তবে যতটুকু সমস্যা হয়েছে, সামনের অসম্পন্ন কাজগুলোতে যেন এমন না হয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকব।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, “আমি কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। এরপরও যদি নির্দেশনা অমান্য করে কাজ করা হয়ে থাকে, তার দায়ভার ঠিকাদারকে নিতে হবে।”

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি কাজ বন্ধ রাখার জন্য এলজিইডি প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
প্রতিষ্ঠাতা চেয়াম্যান ও সম্পাদক : এইচ এম সিদ্দিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আর এইচ এস সিদ্দিক (গাজীপুর),নির্বাহী সম্পাদক: শারমিন আক্তার পলি,
প্রধান বার্তা সম্পাদক:........
এস এম সিদ্দিকুর রহমান সম্পাদিত দৈনিক "কাগজের ডাক" নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত।
ওয়েব সাইড: www.dailykagojerdak.Com, ইমেইল : kagojerd@gmail.com,ফোন নংঃ-+৮৮০৯৬৯৬০০৭৯১১,বার্তা সম্পাদক ফোন:৮৮০৯৬৯৬০০৭৯১১
★বিনা অনুমতিতে সাইটের সংবাদ, আলোক চিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি★