এসএম সুমন রশিদ, বরিশাল ব্যুরো চিফ:
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ২নং গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ ও ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আকন মোঃ আবু সাইদের বিরুদ্ধে পানি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং প্রস্তাবিত নলুয়াভাগী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন ইউপি সদস্য গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগের পর বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তের জন্য উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা ইসুফুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের মতে, ইউনিয়ন পরিষদের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সরকারি প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিয়মনীতি অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান আকন মোঃ আবু সাইদ অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জিআর প্রকল্পের তিন টন চাল বিক্রির বিষয়কে কেন্দ্র করে গোলখালী ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের সদস্যসচিব মোঃ রেজাউল হাওলাদারের কাছে টাকা নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় তাকে উদ্দেশ্য করে ইউপি সদস্যদের দিয়ে জোরপূর্বক অভিযোগ করানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আকন মোঃ আবু সাইদ আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন বলেও জানান।
অন্যদিকে মোঃ রেজাউল হাওলাদার প্যানেল চেয়ারম্যানের এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
এদিকে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করা ইউপি সদস্য মোঃ বাবুল ফকিরের বক্তব্যও বিষয়টিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে এবং তিনি পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। ফলে অভিযোগের পেছনে প্রকৃত ঘটনা কী, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে নথিপত্র, প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ, পরিষদের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। এতে অভিযোগের প্রকৃত ভিত্তি যেমন স্পষ্ট হবে, তেমনি কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন সেটিও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তদন্তকারী কর্মকর্তা নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরবেন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির সুনাম ও অধিকারও নিশ্চিত করা হবে।
তাদের ভাষ্য, ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের সেবা প্রদানের প্রতিষ্ঠান। সেখানে সরকারি অর্থের ব্যবহার, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা শুধু সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব নয়, এটি জনস্বার্থেরও বিষয়।
তাই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের বাইরে গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন স্থানীয়দের প্রধান প্রত্যাশা।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের প্রকৃত সত্য আরও পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রতিষ্ঠাতা চেয়াম্যান ও সম্পাদক : এইচ এম সিদ্দিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আর এইচ এস সিদ্দিক (গাজীপুর),নির্বাহী সম্পাদক: শারমিন আক্তার পলি,
প্রধান বার্তা সম্পাদক:........
এস এম সিদ্দিকুর রহমান সম্পাদিত দৈনিক "কাগজের ডাক" নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত।
ওয়েব সাইড: www.dailykagojerdak.Com, ইমেইল : kagojerd@gmail.com,ফোন নংঃ-+৮৮০৯৬৯৬০০৭৯১১,বার্তা সম্পাদক ফোন:৮৮০৯৬৯৬০০৭৯১১
★বিনা অনুমতিতে সাইটের সংবাদ, আলোক চিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বে-আইনি★