
সোহেল ফরাজি, আমতলী(বরগুনা) প্রতিনিধি:
দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চল বরগুনা জেলাজুড়ে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা তিন দিন ধরে উত্তরের হিমেল বাতাসের সঙ্গে ঘন কুয়াশা জেঁকে বসায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রার মান স্বাভাবিক হচ্ছে না।
আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী,চাওড়া,কুকুয়া,হলদিয়া,আঠারোগাছিয়া,আরপাংগাশিয়া ইউনিয়ন জুড়ে টানা দিনের শৈত্যপ্রবাহের কারনে জনজিবনে নেমে আসে হতাশার ছোঁয়া।এ শৈত্য প্রবাহের কারনে আমতলীর শহর, বন্দর,নগর জুড়ে যেন অশান্তির ছায়া নেমে চলছে। সকাল থেকে দুপুর গড়ালেও কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি থাকছে যে গ্রামাঞ্চল ও সড়কপথ দীর্ঘ সময় অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে। সূর্যের দেখা মিলছে না, ফলে দিনের বেলাতেও যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা নেমে এসেছে ১০০ মিটারের নিচে, যা সড়ক ও নৌপথে চলাচলে সর্বোচ্চ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।তীব্র শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল, দিনমজুর, জেলে ও খেটে খাওয়া মানুষ। অনেককে খোলা আকাশের নিচে কিংবা রাস্তার পাশে খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। শীতের কারণে কর্মস্থলে যেতে না পারায় তাদের আয়ের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।আবার কোন কোন জায়গায় কুয়াশা নেই শুধু ঠান্ডার প্রকোপ।আবার শীতে নানান রোগের জটিলতাও যেন বেড়ে যাচ্ছে।
হাসপাতাল কিংবা বাসাবাড়িতেও রোগাক্রান্ত মানুষগুলো আরো রোগীরা যেন বেশী অসুস্থতার চাপে পড়ে যাচ্ছেন।
চাষী আলতাফ হোসেন বলেন,আমি প্রতিদিন ভোরে মাঠে কাজ করতে যাই। শীতের শুরুতেই আমি কেমন জানি কাজে নেমে যেতে পারছিনা। এবছর শীতের আগমনেই প্রচন্ডভাবে ঠান্ডা পরছে।
অটো চালক বশির বলেন,এই শীতে প্রতিদিন গাড়ী চালাতে পারছিনা।এ বছর অত্যাধিক পরিমাণের শীত।
ছাত্র মাসুম বলেন,আমি সপ্তম শ্রেনীতে পড়ি।এত শীত আমার পোষাকেও মানছেনা।স্কুল বন্ধ থাকায় একটু বিরাম পাচ্ছি।তানাহলে স্কুলে যেতেই কস্ট হতো।
স্বাস্থ্যবিদেরা জানান, শীতে নানান ধরনের রোগগুলো একটু বেশি বেশি বেড়ে যাচ্ছে। এ রোগগুলো প্রতিবছরই এসময় একটুবেশি বেড়ে থাকে।
আরো বলেন, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্তের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীর চাপ বাড়ছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়,গত রবিবার ২৮ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় দক্ষিনাঞ্চলের বরগুনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯১ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
আরো জানান,গত রবিবার ও সোমবার একই ভাবে তাপমাত্রা রেকর্ড রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন,শীতার্ত মানুষের কষ্ট আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহযোগিতার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন উপকূলীয় এলাকায় শীত ও কুয়াশার এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।










