
গত মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ওই দুটি ব্যাংকের তিনটি লকার খোলা হয়।
এরপর দুদক তিনটি লকারে সংরক্ষিত মালামালের ইনভেন্টরি (তালিকা) তৈরি করে। ওই তালিকায় পূবালী ব্যাংকের লকারে পাওয়া পাটের ছোট ব্যাগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের ওই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা ২০০৭ সালে দুদুকে যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেছেন সেখানে উল্লেখ করা স্বর্ণালঙ্কার ও লকারের জমা রাখা স্বর্ণালংকার মিলিয়ে দেখা হবে। এতে লকারে অতিরিক্ত স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেলে সেগুলো অবৈধ বলে গণ্য হবে।
দুদক জানায়, অগ্রণী ব্যাংকে সংরক্ষিত দুটি লকারে পাওয়া ৮৩১ দশমিক ৬৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে স্বর্ণের চেইনসহ নানা রকমের গহনা রয়েছে। এর মধ্যে তাদের পরিবারের সদস্যদের স্মৃতি বিজড়িত কিছু অলংকারও রয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনার প্রয়াত ছোট ভাই শেখ কামালের হাতের আঙ্গুলের সোনার আংটিও রয়েছে। শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যবহৃত নানা অলংকারও রয়েছে। তাদের জন্য কোন কোন অলঙ্কার জয় ও পুতুলকে দিয়েছিলেন সেগুলো শেখ হাসিনা কাগজে নিজ হাতে লিখে আলাদাভাবে রেখেছেন। এর মধ্যে জয়ের স্ত্রীর জন্য গলার একটি চেইন ক্রয় করেছিলেন- সেটিও আছে।
তিনটি লকারে প্রাপ্ত সম্পদ
পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল কর্পোরেট শাখায় সংরক্ষিত লকারটি শেখ হাসিনার নামে। লকার নম্বর- ১২৮। এটিতে শুধুই একটি খালি ছোট পাটের ব্যাগ পাওয়া যায়। আর কোন ধরনের অলঙ্কার, মুত্রা বা অন্য কোন সম্পদ পাওয়া যায়নি।
অগ্রণী ব্যাংক প্রিন্সিপাল শাখার লকারটি শেখ হাসিনা ও তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে। লকার নম্বর- ৭৫১/বড়/১৯৬। খোলার পর এটিতে ৪৯২৩.৬০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়। একই ব্যাংকের একই শাখার লকারটি শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা সিদ্দিকীর নামে। লকার নম্বর- ৭৫৩/বড়/২০০। এটি খোলার পর ৪৭৮৩.৫৬ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে। দু’টি লকারে মোট ৮৩১ দশমিক ৬৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, শেখ হাসিনা ২০০৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তার নামে সংরক্ষণ করা ওই তিনটি লকারের তথ্য উল্লেখ করেছিলেন। ওই তথ্য পাওয়ার ২৫ বছর পর আদালতের আদেশ অনুযায়ী দুদক গত মঙ্গলবার লকার তিনটি খুলেছে। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দুদক শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদ যাচাই অনুসন্ধানে নামে। এই পর্যায়ে লকারগুলো খোলার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। লকার তিনটির সম্পদের তালিকা করে দুদক ব্যাংক দুটোর সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপকের জিম্মায় রেখেছেন।
লকার তিনটির তথ্য পাওয়া, খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া, অবশেষে খুলে সম্পদ বের করার সব কাজ করেছে দুদক। দুদক উপপরিচালক মাসুদুর রহমান গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজের কাছে দেওয়া এক আবেদনে একজন বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন মেজিস্ট্রেট, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মনোনীত কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত জুয়েলারি বিশেষজ্ঞ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সিআইসি কর্তৃক মনোনীত একজন কর্মকর্তা ও আয়কর গোয়েন্দা ইউনিটের মনোনীত একজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে খোলার অনুমতি দেওয়ার আবেদন দাখিল করেন। পরে আদালত ওই আবেদনের শুনানি শেষে ওইসব প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে লকার খোলার আদেশ দেন। এরপরই দুদকের তত্ত্বাবধানে লকারগুলো খোলা হয়।
আজ অফিস থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, লকারের স্বর্ণালংকার উদ্ধারের ক্ষেত্রে এনবিআর একটি মাত্র অংশ ছিল। লকার খোলার সময় তাদের কোন সহায়তার প্রয়োজন হবে কিনা- তার জন্য এনবিআর ও আয়কর গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উপস্থিতি চেয়েছে দুদক।










