ঢাকা ১১:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এইমাত্র পাওয়াঃ
Logo চরমোনতাজে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নৃশংস হামলা!   Logo চট্টগ্রাম থেকে গলাচিপার সজীব নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার Logo গলাচিপায় বাবা দিনমজুর, জিপিএ-৫ পেয়েও অর্থেরঅভাবে অনিশ্চিত ফারজানার পড়ালেখা Logo আমতলীর ইউএনও প্রধানমন্ত্রীর দেয়া অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠির কর্সংস্থান খাল খনন প্রকল্পের  শ্রমিকদের টাকা না দিয়ে তা   সরকারী কোষাগারে  ফেরত দেখালেন, শুধু নাম ফোটাতে  Logo গলাচিপায় অস্তিত্ব হারানো খাল উদ্ধারের উদ্যোগ Logo যৌতুকের দাবিতে বাকপ্রতিবন্ধী স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ, পটুয়াখালী আদালতে মামলা Logo আমতলীতে গুলিশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের নেতা মনির ঘরামীকে যুবদল সভাপতি হিসেবে দেখতে চান স্থানীয় সমর্থকেরা Logo আমতলীতে অচলাবস্থা নিরসনে বাস,মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটি গঠনে সাধারন সভা অনুষ্ঠিত। Logo বর্ষাকালে ক্ষই খাওয়ার কদর হারিয়ে যাচ্ছে, হারাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য Logo আমতলীতে টানা ৩ ঘণ্টার বৃষ্টিতে জনজীবন স্থবির,৩ নম্বর সতর্ক সংকেত।
কাগজের ডাক:
Logo চরমোনতাজে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নৃশংস হামলা!   Logo চট্টগ্রাম থেকে গলাচিপার সজীব নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার Logo গলাচিপায় বাবা দিনমজুর, জিপিএ-৫ পেয়েও অর্থেরঅভাবে অনিশ্চিত ফারজানার পড়ালেখা Logo আমতলীর ইউএনও প্রধানমন্ত্রীর দেয়া অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠির কর্সংস্থান খাল খনন প্রকল্পের  শ্রমিকদের টাকা না দিয়ে তা   সরকারী কোষাগারে  ফেরত দেখালেন, শুধু নাম ফোটাতে  Logo গলাচিপায় অস্তিত্ব হারানো খাল উদ্ধারের উদ্যোগ Logo যৌতুকের দাবিতে বাকপ্রতিবন্ধী স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ, পটুয়াখালী আদালতে মামলা Logo আমতলীতে গুলিশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের নেতা মনির ঘরামীকে যুবদল সভাপতি হিসেবে দেখতে চান স্থানীয় সমর্থকেরা Logo আমতলীতে অচলাবস্থা নিরসনে বাস,মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটি গঠনে সাধারন সভা অনুষ্ঠিত। Logo বর্ষাকালে ক্ষই খাওয়ার কদর হারিয়ে যাচ্ছে, হারাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য Logo আমতলীতে টানা ৩ ঘণ্টার বৃষ্টিতে জনজীবন স্থবির,৩ নম্বর সতর্ক সংকেত।

আমতলীর ইউএনও প্রধানমন্ত্রীর দেয়া অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠির কর্সংস্থান খাল খনন প্রকল্পের  শ্রমিকদের টাকা না দিয়ে তা   সরকারী কোষাগারে  ফেরত দেখালেন, শুধু নাম ফোটাতে 

  • Kagojer Dak
  • আপডেট সময় : ০৪:২৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪৪৫ বার পড়া হয়েছে

সোহেল ফরাজি,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেয়া অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠির কর্মসংসন্থান প্রকল্প খাল খনন কর্মসুচীতে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক বছর আগের কাটা খাল পুনরায় খনন করে সদস্য বিদায়ী অমাতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী অর্র্কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। আরো অভিযোগ রয়েছে ইউএনও শ্রমিকদের মজুরীর না দিয়ে নাম কুড়াতে সরকারী কোষাগারে টাকা ফেরতের আড়ালে  টাকা আত্মসাৎ করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে মহৎ উদ্যোগ নিয়ে খাল খনন কর্মসুচী হাতে নিয়েছেন ওই কর্মসুচী ভেস্তে গেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের।
জানাগেছে, অতিদ্ররিদ্র জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমতলী উপজেলায় দুইটি খাল খনন প্রকল্পের উদ্যোগ নেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেওয়াবুনিয়া খালের ৩ কিলোমিটার এবং হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খালের ২ কিলোমিটার খননে এক কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৭ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে কেওয়াবুনিয়া খালে ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২  এবং পশুরবুনিয়া খালে ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা  হয়। ইউএনও মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী দায়সারা দুইটি খালের ৪ কিলোমিটার খনন শেষে সরকারী কোষাগারে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা ফেরত দিয়েছেন। বাকী টাকা ইউএনও ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম উত্তোলন করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, খাল খননে ৩৯৭ জন হতদরিদ্র শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে কাজ করেছেন ১৫৯ জন। ওই শ্রমিকরা এখানো তাদের দৈনিক মজুরীর পুরো টাকা পায়নি। কিছু টাকা দিয়ে বাকী টাকা আজ-কাল দেব বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা টালবাহানা করছেন। খাল খনন শেষে ইউএনও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য খালের দুই  পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করেছেন কিন্তু বাস্তবে কোন গাছ নেই। আরো অভিযোগ রয়েছে, গতএক বছর আগে কেওয়াবুনিয়া খালের এক পাশ কেটে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। ওই খালই এ বছর পুনরায় খনন করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ও শ্রমিকদের অভিযোগ খাল খননের টাকা এখনো শ্রমিকরা পাইনি, সেখালে ইউএনও কিভাবে সরকারী কোষাগারে টাকা ফেরত দেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবী তাদের। তাদের আরো অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে মহৎ উদ্যোগ নিয়ে খাল খনন কর্মসুচী হাতে নিয়েছেন ওই কর্মসুচী ভেস্তে গেছে। ইউএনও ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ভাগবাটোয়ারা করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
স্থানীয় নুর আলম, সেকান্দার খাঁন  বলেন, কাটা খাল ইউএনও কেটে গেছেন। এক বছর আগে এ খালের এক পাশ কেটে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল।
শ্রমিক ওমর গাজী, মারুফ হাওলাদার, সুমন হাওলাদার বলেন, ছয় দিন কাজ করেছি। তিন দিনের টাকা পেয়েছি, বাকী টাকা এখনো পাইনি।
শ্রমিক নাজমুল বলেন, ছয় দিন কাজ করেছি, তাতে মাত্র দের হাজার টাকা দিয়েছেন। বাকী টাকা এখনো পাইনি। টাকা চাইতে গেলে দেব বলে টালবাহানা করতে থাকে। তিনি আরো বলেন, আমার শ্রমের টাকা পাইনি কিন্তু ইউএনও কিভাবে টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবী জানান তিনি।
বেকু মেশিন মালিক মোঃ জামাল সিকদার বলেন, ২ হাজার ২ ০০ মিটার খাল খনন কাজ করেছি। তাতে মাত্র ৩ লাখ টাকা দিয়েছেন প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য জহির মাদবর।  বাকী টাকা এখনো পাইনি।
কেওয়াবুনিয়া খাল খনন প্রকল্পের সভাপতি  কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ জহির উদ্দিন মাতুবরের অভিযোগ তাকে কাগজে কলমে প্রকল্প সভাপতি করা হলেও সকল কাজ করেছেন ইউএনও, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও তাদের লোকজন। আমি তাদের হুকুম পালন করেছি মাত্র। এখানে আমার কোন দায় নেই। তিনি আরো বলেন, কেওয়াবুনিয়া ৩ কিলোমিটার খাল খননে ১৮ লাখ টাকা চুক্তিতে বেকু মেশিন ঠিক করা হয়। ওই বেকু মেশিক দিয়ে খাল খনন করা হয়েছে। তবে তিনি এ খাল আগে  কেটে রাস্তা নির্মাণের কথা অস্বীকার করেছেন।
পশুরবুনিয়া খাল খনন প্রকল্প সভাপতি হলদিয়া ইউপি সদস্য কালু মৃধা বলেন,  দুই কিলোমিটার খাল খননের বরাদ্দ হলেও তা কাটা হয়নি। ভেকু মেশিন দিয়ে খাল খনন করা হয়েছে। বেকু মেশিন মালিককে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিল দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, কাগজে-কলমে প্রকল্প সভাপতি করা হলেও বাস্তবে আমি কিছুই না। আমি ইউএনও স্যার ও পিআইও কর্মকর্তার কথা মত কাজ করছি। তারা যেভাবে করতে বলেছেন, আমি সেভাবে করেছি? তিনি আরো  খাল খনন কাজ শেষ হলেও ১১৯ জন শ্রমিক কাজ করেছেন তাদের কাউকে এখনো মজুরী টাকা দেয়া হয়নি। শ্রমিকদের দৈনিক মজুরী টাকার জন্য ইউএনও কাছে বেশ কয়েকবার গিয়েছি এবং বলেছি তিনি কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দিক নির্দেশনা মোতাবেক  খাল খনন কাজ শেষ করেছি। শ্রমিকরা মজুরী টাকা পায়নি এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রকল্প সভাপতির সাথে আলোচনা করেন। সমুদয় টাকা দেয়া হয়েছে।
সদ্য বিদায়ী আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, আমি একটু ব্যস্ত আছি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তিনিই  সব জানেন।  তবে শ্রমিকদের মজুরী না দিয়ে নাম কুড়াতে সরকারী কোষাগারে টাকা ফেতর দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চরমোনতাজে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নৃশংস হামলা!  

আমতলীর ইউএনও প্রধানমন্ত্রীর দেয়া অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠির কর্সংস্থান খাল খনন প্রকল্পের  শ্রমিকদের টাকা না দিয়ে তা   সরকারী কোষাগারে  ফেরত দেখালেন, শুধু নাম ফোটাতে 

আপডেট সময় : ০৪:২৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

সোহেল ফরাজি,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেয়া অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠির কর্মসংসন্থান প্রকল্প খাল খনন কর্মসুচীতে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এক বছর আগের কাটা খাল পুনরায় খনন করে সদস্য বিদায়ী অমাতলী উপজেলা নিবার্হী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী অর্র্কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। আরো অভিযোগ রয়েছে ইউএনও শ্রমিকদের মজুরীর না দিয়ে নাম কুড়াতে সরকারী কোষাগারে টাকা ফেরতের আড়ালে  টাকা আত্মসাৎ করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে মহৎ উদ্যোগ নিয়ে খাল খনন কর্মসুচী হাতে নিয়েছেন ওই কর্মসুচী ভেস্তে গেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের।
জানাগেছে, অতিদ্ররিদ্র জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমতলী উপজেলায় দুইটি খাল খনন প্রকল্পের উদ্যোগ নেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম কেওয়াবুনিয়া খালের ৩ কিলোমিটার এবং হলদিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া খালের ২ কিলোমিটার খননে এক কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৭ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে কেওয়াবুনিয়া খালে ৭৭ লাখ ২৮ হাজার ৮৪২  এবং পশুরবুনিয়া খালে ৫১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৯৫ টাকা  হয়। ইউএনও মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী দায়সারা দুইটি খালের ৪ কিলোমিটার খনন শেষে সরকারী কোষাগারে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ৫৪০ টাকা ফেরত দিয়েছেন। বাকী টাকা ইউএনও ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম উত্তোলন করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, খাল খননে ৩৯৭ জন হতদরিদ্র শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে কাজ করেছেন ১৫৯ জন। ওই শ্রমিকরা এখানো তাদের দৈনিক মজুরীর পুরো টাকা পায়নি। কিছু টাকা দিয়ে বাকী টাকা আজ-কাল দেব বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা টালবাহানা করছেন। খাল খনন শেষে ইউএনও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য খালের দুই  পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করেছেন কিন্তু বাস্তবে কোন গাছ নেই। আরো অভিযোগ রয়েছে, গতএক বছর আগে কেওয়াবুনিয়া খালের এক পাশ কেটে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। ওই খালই এ বছর পুনরায় খনন করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ও শ্রমিকদের অভিযোগ খাল খননের টাকা এখনো শ্রমিকরা পাইনি, সেখালে ইউএনও কিভাবে সরকারী কোষাগারে টাকা ফেরত দেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবী তাদের। তাদের আরো অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে মহৎ উদ্যোগ নিয়ে খাল খনন কর্মসুচী হাতে নিয়েছেন ওই কর্মসুচী ভেস্তে গেছে। ইউএনও ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ভাগবাটোয়ারা করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
স্থানীয় নুর আলম, সেকান্দার খাঁন  বলেন, কাটা খাল ইউএনও কেটে গেছেন। এক বছর আগে এ খালের এক পাশ কেটে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছিল।
শ্রমিক ওমর গাজী, মারুফ হাওলাদার, সুমন হাওলাদার বলেন, ছয় দিন কাজ করেছি। তিন দিনের টাকা পেয়েছি, বাকী টাকা এখনো পাইনি।
শ্রমিক নাজমুল বলেন, ছয় দিন কাজ করেছি, তাতে মাত্র দের হাজার টাকা দিয়েছেন। বাকী টাকা এখনো পাইনি। টাকা চাইতে গেলে দেব বলে টালবাহানা করতে থাকে। তিনি আরো বলেন, আমার শ্রমের টাকা পাইনি কিন্তু ইউএনও কিভাবে টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবী জানান তিনি।
বেকু মেশিন মালিক মোঃ জামাল সিকদার বলেন, ২ হাজার ২ ০০ মিটার খাল খনন কাজ করেছি। তাতে মাত্র ৩ লাখ টাকা দিয়েছেন প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য জহির মাদবর।  বাকী টাকা এখনো পাইনি।
কেওয়াবুনিয়া খাল খনন প্রকল্পের সভাপতি  কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোঃ জহির উদ্দিন মাতুবরের অভিযোগ তাকে কাগজে কলমে প্রকল্প সভাপতি করা হলেও সকল কাজ করেছেন ইউএনও, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও তাদের লোকজন। আমি তাদের হুকুম পালন করেছি মাত্র। এখানে আমার কোন দায় নেই। তিনি আরো বলেন, কেওয়াবুনিয়া ৩ কিলোমিটার খাল খননে ১৮ লাখ টাকা চুক্তিতে বেকু মেশিন ঠিক করা হয়। ওই বেকু মেশিক দিয়ে খাল খনন করা হয়েছে। তবে তিনি এ খাল আগে  কেটে রাস্তা নির্মাণের কথা অস্বীকার করেছেন।
পশুরবুনিয়া খাল খনন প্রকল্প সভাপতি হলদিয়া ইউপি সদস্য কালু মৃধা বলেন,  দুই কিলোমিটার খাল খননের বরাদ্দ হলেও তা কাটা হয়নি। ভেকু মেশিন দিয়ে খাল খনন করা হয়েছে। বেকু মেশিন মালিককে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিল দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, কাগজে-কলমে প্রকল্প সভাপতি করা হলেও বাস্তবে আমি কিছুই না। আমি ইউএনও স্যার ও পিআইও কর্মকর্তার কথা মত কাজ করছি। তারা যেভাবে করতে বলেছেন, আমি সেভাবে করেছি? তিনি আরো  খাল খনন কাজ শেষ হলেও ১১৯ জন শ্রমিক কাজ করেছেন তাদের কাউকে এখনো মজুরী টাকা দেয়া হয়নি। শ্রমিকদের দৈনিক মজুরী টাকার জন্য ইউএনও কাছে বেশ কয়েকবার গিয়েছি এবং বলেছি তিনি কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
আমতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দিক নির্দেশনা মোতাবেক  খাল খনন কাজ শেষ করেছি। শ্রমিকরা মজুরী টাকা পায়নি এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রকল্প সভাপতির সাথে আলোচনা করেন। সমুদয় টাকা দেয়া হয়েছে।
সদ্য বিদায়ী আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, আমি একটু ব্যস্ত আছি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তিনিই  সব জানেন।  তবে শ্রমিকদের মজুরী না দিয়ে নাম কুড়াতে সরকারী কোষাগারে টাকা ফেতর দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।